তৃণমূলের তহবিলকে ঘিরে আইনি লড়াই আরও বড় মোড় নিতে চলেছে। দলের আসল-নকল বিতর্কের আবহে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির (TMC accounts)। সূত্রের খবর, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দল পরিচালনার অধিকার এবং দলীয় তহবিল ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আবেদন জানানো হতে পারে।
এরই মধ্যে তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (TMC accounts) থাকা চারশো চল্লিশ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দলীয় তহবিল থেকে প্রায় একশো ষাট কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। সেই লেনদেনের উৎস এবং প্রকৃতি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, দলীয় তহবিলের (TMC accounts) অর্থ ব্যবহার করে বিমান ও হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। পরে সেই উড়ানই ভাড়ায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কেরল, ইউরোপ এবং বিদেশি আর্থিক যোগসূত্র নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন ঋতব্রত।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও দাবি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের একটি অংশ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং আর্থিক উৎস গোপনের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি (TMC accounts)।
এদিকে দলীয় সংগঠন নতুন করে সাজানোর প্রস্তুতিও শুরু করেছে ঋতব্রত শিবির। সূত্রের খবর, জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টন হতে পারে। পাশাপাশি আসন্ন বৈঠকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ফলে তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।













