একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস (Shahid Diwas) ঘিরে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভেঙে এ বছর ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবসের সভা করা সম্ভব নাও হতে পারে। সূত্রের খবর, ওই এলাকায় জনসভা করার অনুমতি দেবে না কলকাতা পুলিশ। একই সঙ্গে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল— উভয় পক্ষের আবেদনই খারিজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (Shahid Diwas)।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভিক্টোরিয়া হাউস এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একশো তেষট্টি ধারার অধীনে জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সেই কারণেই একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির (Shahid Diwas) অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর বিকল্প স্থান খোঁজা শুরু করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর থেকেই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক, দলীয় তহবিল এবং সাংগঠনিক অধিকার নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। সেই আবহেই এবার একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি (Shahid Diwas) নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর এই দিনটি তৃণমূলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে পালিত হয়। উনিশশো তিরানব্বই সালের মহাকরণ অভিযানে নিহত তেরো জন কর্মীর স্মৃতিতে বহু বছর ধরে ধর্মতলাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে আসছে।
পুলিশের সিদ্ধান্তের পর তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একুশে জুলাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা (Shahid Diwas) জানানোর দিন। তাই বিকল্প স্থান নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে আবারও কথা বলা হতে পারে।
অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও জানিয়েছে, তারা আইন মেনেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজনে আবারও পুলিশের কাছে অনুমতির আবেদন জানানো হবে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি (Shahid Diwas) হিসেবে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে মঞ্চ তৈরির সম্ভাব্য জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কয়েকজন নেতা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং কয়েকজন নেতাকে নোটিস পাঠিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই সিদ্ধান্তের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দীর্ঘ তেত্রিশ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে এ বছর কি অন্য কোথাও পালিত হবে একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস? নাকি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে? সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।













