মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিরোধী শিবিরে সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে। কংগ্রেসের দাবি, শরদ পওয়ারের (Sharad Pawar) দলের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন বিধায়ক অত্যন্ত অস্থির অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁরা যে কোনও সময় দল ছাড়তে পারেন। এই দাবি সামনে আসতেই মহাবিকাশ জোটের অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান বলেছেন, শরদ পওয়ারের (Sharad Pawar) দলের কয়েকজন বিধায়কের আচরণে অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, তাঁরা কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়। চৌহানের আরও অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিয়মিতভাবে বিরোধী দলের বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর আশঙ্কা, এক সময় উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় যে ভাঙন দেখা গিয়েছিল, শরদ পওয়ারের (Sharad Pawar) দলেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে শরদ পওয়ারের (Sharad Pawar) দল। দলের নেতা জয়ন্ত পাটিল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দল ছাড়ছেন না। তাঁর দাবি, দলের সব জনপ্রতিনিধি ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। অন্য রাজনৈতিক দলের এই ধরনের জল্পনাকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও মন্তব্য করেছেন।
এর মধ্যেই মহারাষ্ট্র বিধানসভায় শরদ পওয়ার এবং একনাথ শিণ্ডের বৈঠক ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বৈঠকের পর থেকেই বিরোধী শিবিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উদ্ধব ঠাকরের দলের নেতা সঞ্জয় রাউত প্রশ্ন তুলেছেন, বিধানসভায় এত জায়গা থাকতে শরদ পওয়ার (Sharad Pawar) কেন একনাথ শিণ্ডের কক্ষেই বৈঠক করলেন। তাঁর মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নানা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ এবং শরদ পওয়ারের দলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।












