বাংলার রাজনীতিতে তরুণ মুখ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের বাগ্মিতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার জোরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি (Debangshu Bhattacharya)। বর্তমানে দলের আইটি সেলের রাজ্য ইনচার্জ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দেবাংশু।
সোশ্যাল মিডিয়াতেই তাঁর জনপ্রিয়তার শুরু। ফেসবুক লাইভ এবং ইউটিউবে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ধারালো বক্তব্য এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ আক্রমণ খুব দ্রুত তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে তাঁকে (Debangshu Bhattacharya)। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘খেলা হবে’ স্লোগান তাঁকে রাতারাতি রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে পরিচিত মুখ করে দেয়। সেই স্লোগান শুধু তৃণমূলের প্রচারের হাতিয়ার হয়নি, গোটা দেশের রাজনীতিতেই আলোড়ন ফেলেছিল।
দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক বিতর্কে যুক্তি দিয়ে পাল্টা আক্রমণের দক্ষতার জন্য খুব দ্রুতই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন দেবাংশু (Debangshu Bhattacharya)। টিভি বিতর্ক থেকে জনসভা— সর্বত্রই দলের অন্যতম মুখ হিসেবে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়াও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় পদক্ষেপ ছিল। যদিও জয় আসেনি, তবুও রাজনৈতিক মহলের মতে, নিজের লড়াই এবং জনসংযোগের দক্ষতায় তিনি প্রমাণ করেছেন, কোনও রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয় ছাড়াও রাজনীতির প্রথম সারিতে উঠে আসা সম্ভব (Debangshu Bhattacharya)।
কিন্তু রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকটাই নীরব দেখা যাচ্ছে দেবাংশুকে। গত কয়েকদিনে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর কোনও পোস্ট বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
এই বিষয়ে দেবাংশু বলেন, “আমি এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার মতো এখন আমার কাছে কিছু নেই। তাই কিছু লিখছি না। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলের কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। সেই পরিস্থিতি নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত। যেখানে সমস্যা হচ্ছে, সেখানে নতুন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।”
তৃণমূলের কঠিন সময়ে দলের একাধিক পরিচিত মুখ অবস্থান বদলাতে শুরু করেছেন। কোহিনুর ও ঋজুদের মতো কয়েকজন ইতিমধ্যেই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি দেবাংশু ভট্টাচার্য।













