রাজ্যে বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে (CPIM)। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই দিনই বিজেপি বিরোধী শক্তিকে একজোট করার ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজের কালীঘাটের বাড়ির সামনে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, বিজেপিকে রুখতে সব বিরোধী দলকে একসঙ্গে আসতে হবে। তিনি বাম, অতিবাম এবং অন্যান্য বিজেপি বিরোধী শক্তিকেও যৌথ মঞ্চে আসার আহ্বান জানান।
তবে মমতার এই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিল সিপিএম (CPIM)। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “না, একদম না।” সিপিএমের তরফে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলা হয়েছে, “অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সাম্প্রদায়িক পরিচয় রয়েছে এমন কাউকে দলে বা আন্দোলনে জায়গা দেওয়া হবে না।”
সিপিএমের (CPIM) এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন দলের তরুণ নেতারাও। তৃণমূলের সঙ্গে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতায় যেতে নারাজ বলেই বার্তা দিয়েছে বাম শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে জোট রাজনীতির নজির রয়েছে। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারকে হারাতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল তৃণমূল। এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই বামেদেরই পাশে চাইছেন মমতা। এমনকি অতিবামদেরও একসঙ্গে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে সিপিএম (CPIM) নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কোনও জোটে না গিয়ে নিজেদের শক্তিতেই বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাবে। সেলিমের বক্তব্য, তৃণমূলের সঙ্গে দুর্নীতি এবং তোলাবাজির অভিযোগ জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই মমতার প্রস্তাবে সাড়া দিতে রাজি নয় সিপিএম।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠনের পর বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও বাড়ছে জল্পনা।












