পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (CMO) বা সিএমও-তে একাধিক রদবদল করা হয়েছে। পুরনো কয়েকজন আমলাকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৬ জন আধিকারিককে। পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করা আরও ৪৬ জন আধিকারিককে পাঠানো হয়েছে কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরে। সব মিলিয়ে মোট ৬২ জন ডব্লুবিসিএস আধিকারিকের দায়িত্ব বদল করা হয়েছে (CMO)।
সরকারের তরফে ৯ মে দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, সিএমও-তে (CMO) নতুন করে বিশেষ সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং যুগ্ম সচিব পদে একাধিক আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এতদিন মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরে থাকা কয়েকজন আধিকারিককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।
২০১৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার শান্তনু মুখোপাধ্যায়কে সিএমও থেকে সরিয়ে কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতাপ নায়েককে নতুন দায়িত্ব দিয়ে দার্জিলিংয়ের বিজনবাড়ি ব্লকে পাঠানো হয়েছে (CMO)।
নতুন সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন কমিশনারেট ও জোনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে যোগ দেবেন সিআইডি এবং এসটিএফের কর্তারাও (CMO)।
এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের হয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
একইসঙ্গে ২০১৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার শান্তনু বালাকে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এতদিন তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। নতুন সরকার শুরু থেকেই প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।











