রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তাঁর দাবি, একসময় বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নকশালদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি নিজেই রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন।
অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) বলেন, “বামদের সরানোর সময় উনি নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। পরে কিষানজিকে হত্যা করা হয়েছিল। এখন দিদি নিজেই বিপদে পড়েছেন। তাই সবাইকে ডাকছেন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। অধীরের (Adhir Ranjan Chowdhury) বক্তব্য, “বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা আমরা দেখতে চাই। যদি কেউ যায়, তাহলে বোঝা যাবে মানুষ এখনও তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে মানছে কি না।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury)। তিনি বলেন, “শুনছি খোকাবাবুর বাড়ি এখন দর্শনীয় জায়গা হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হলে কত বড় ক্ষমতা পাওয়া যায় আর সেই ক্ষমতায় কীভাবে বড় বাড়ি তৈরি হয়, সেটা দেখতেই নাকি মানুষ ভিড় করছে। খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজিয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব তাড়াতাড়ি মিউজিয়াম হয়ে যাবে।”
আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “দিদি হাজরার মোড়ে দাঁড়িয়ে কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে একদিন তাঁকে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করতেই হবে।”
প্রসঙ্গত, শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের পর বিজেপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সবাই একসঙ্গে আসুন। বিজেপিকে রুখতে হলে জোট বাঁধতে হবে। আমার কোনও অহংকার নেই। দিল্লিতেও লড়ব, রাজ্যেও একসঙ্গে লড়ব।”
মমতার এই আহ্বানে বামপন্থীরা অবশ্য এখনও সাড়া দেয়নি। তারা আপাতত একাই চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অধীর চৌধুরীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।













