Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • বিদেশ
  • ফের কি লকডাউন? সমুদ্রের মাঝে ছড়াল ভয়ংকর হান্টাভাইরাস
বিদেশ

ফের কি লকডাউন? সমুদ্রের মাঝে ছড়াল ভয়ংকর হান্টাভাইরাস

hanta virus 1
Email :2

প্রমোদতরীতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন বহু দেশের যাত্রীরা। কেউ গিয়েছিলেন দক্ষিণ আটলান্টিকের সৌন্দর্য দেখতে, কেউ আবার কয়েকদিন নির্ভার আনন্দে কাটাতে। কিন্তু সেই স্বপ্নের সফরই মুহূর্তে পরিণত হয়েছে আতঙ্কে। আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিপে ছড়িয়ে পড়েছে হান্টাভাইরাস (Hantavirus)। ইতিমধ্যেই একাধিক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন আরও অনেকে। এর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, ফের কি করোনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে?

নেদারল্যান্ডসের প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াস গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে (Hantavirus)। দক্ষিণ আটলান্টিকের বিভিন্ন দ্বীপ ও আন্টার্কটিকা ঘুরছিল জাহাজটি। যাত্রার মাঝপথে এক যাত্রীর হঠাৎ জ্বর, পেটের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আক্রান্ত যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে মারা যান। আরও এক জার্মান নাগরিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত আটজন হান্টাভাইরাসে (Hantavirus) আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর থেকে ছড়ায়। ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে। সংক্রমিত জায়গা পরিষ্কার করতে গেলেও এই ভাইরাস মানবদেহে ঢুকে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি দীর্ঘ সময় থাকলেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে (Hantavirus)।

হান্টাভাইরাসের উপসর্গ প্রথমে সাধারণ জ্বরের মতোই। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি, ডায়ারিয়া, পেটে যন্ত্রণা দেখা দেয়। পরে অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে জটিল সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভাইরাসটি মানবদেহে এক থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

ক্রুজ শিপটিতে মোট ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের মানুষ রয়েছেন। ভারতীয় ক্রু সদস্যও ছিলেন দু’জন। বর্তমানে বহু যাত্রীকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছে। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের সবথেকে বড় উদ্বেগ, এই ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা এখনও নেই। ফলে শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ চিকিৎসার উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। আমেরিকার কিছু অঞ্চলে এই ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে (Hantavirus)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তা টেড্রোস আধানম গ্রেবিয়াসিস জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস বিরল হলেও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই দ্রুত আক্রান্তদের আলাদা রাখা ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। করোনার স্মৃতি এখনও টাটকা। তাই হান্টাভাইরাস ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ভারতীয় যাত্রী ও ক্রু সদস্য থাকার খবর সামনে আসতেই চিন্তা বেড়েছে দেশেও।

মেটা বর্ণনা: আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিপে ছড়িয়ে পড়ল ভয়ংকর হান্টাভাইরাস। একাধিক যাত্রীর মৃত্যু, আক্রান্ত আরও অনেকে। ভারতীয় ক্রু সদস্য থাকায় বাড়ছে আতঙ্ক। ফের কি করোনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts