তারাতলার (Taratala) ভয়াবহ গোডাউন ধসের প্রকৃত কারণ জানতে এবার ঘটনাস্থলে পৌঁছাল বিশেষজ্ঞদের একটি দল। প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় অন্তত সতেরো জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, এত বড় নির্মাণকাজে কীভাবে একের পর এক ত্রুটি থেকে গেল এবং তা সত্ত্বেও কাজ চলতে থাকল। সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের পাঁচ সদস্যের একটি দল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন নির্মাণ প্রকৌশলী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে স্থাপত্য, ধাতুবিদ্যা, নির্মাণ প্রযুক্তি এবং সিভিল প্রকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন (Taratala)।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর পার্থপ্রতিম বিশ্বাস জানান, উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে কিছু দেহাংশ আটকে থাকতে পারে। তাই সমস্ত উদ্ধার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গভাবে পরীক্ষা শুরু হবে (Taratala)।
বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তদন্ত হবে দুটি ধাপে। প্রথমে গোটা নির্মাণস্থল খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে। এরপর ধ্বংসাবশেষ, নির্মাণসামগ্রী এবং মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। সেই পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। নির্মাণের নকশা, ব্যবহৃত উপকরণের মান এবং মাটির অবস্থা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে (Taratala)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরের পর উদ্ধার অভিযান আপাতত শেষ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকে নেই বলেই জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। এরপর থেকেই বিশেষজ্ঞদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হওয়ার পথ কার্যত পরিষ্কার হয়েছে।
তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আসল কারণ কী ছিল, নির্মাণে কোথায় কোথায় গাফিলতি হয়েছে এবং কার দায়ে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, সেই উত্তরই এখন খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টই এই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।













