তারাতলার (Taratala) ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে একদিনেরও বেশি সময়। কিন্তু এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে কতজন আটকে রয়েছেন, তার সঠিক তথ্য মিলছে না। উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। সেনা, পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ জানিয়েছে, যে গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের কাজ চলছিল সেখানে শ্রমিকদের কোনও রেজিস্টার রাখা হয়নি (Taratala)। ফলে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন এবং কতজন এখনও নিখোঁজ থাকতে পারেন, সেই হিসেব মিলছে না। এই কারণেই তদন্তকারীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, বন্দরের কাছ থেকে জায়গাটি লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বহেরা (Taratala)। আগে এটি তিন ভাইয়ের যৌথ সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হলেও পরে একক মালিকানা চলে আসে তাঁর হাতে। ওই জায়গায় গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ তৈরির কাজ চলছিল (Taratala)। নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল একটি ঠিকাদারি সংস্থা। সেই কাজের তদারকি করছিলেন আসগার হোসেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনায় তাঁরও মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা ছিল বলে জানা গিয়েছে (Taratala)।
এদিকে, গুদাম নির্মাণের অনুমোদন সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে তদন্তকারী দল। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
তারাতলা বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯ জন। উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার নেপথ্যে কার গাফিলতি ছিল, তা জানতেও জোরদার হয়েছে তদন্ত।













