Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • রাজ্য
  • চার ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে! বেঁচে ফিরেই যা বললেন ঠিকাদার, শুনলে গা শিউরে উঠবে
রাজ্য

চার ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে! বেঁচে ফিরেই যা বললেন ঠিকাদার, শুনলে গা শিউরে উঠবে

taratala recue
Email :3

তারাতলার (Taratala) নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ভয়াবহ ঘটনায় চার ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ঢালাইয়ের ঠিকাদার দেবাশিস দাস। শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও বারবার মনে পড়ছে সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্ত আর হারিয়ে যাওয়া দুই শ্রমিকের কথা।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে দেবাশিস বলেন, তিনি আর কোনও দিন এই ধরনের কাজে ফিরতে চান না। তাঁর কথায়, যাঁদের তিনি কাজে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুই জন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি (Taratala)। সেই কষ্ট তাঁকে সারাজীবন তাড়া করে বেড়াবে। তিনি জানান, নিজের প্রাণ বাঁচলেও ওই দুই শ্রমিকের পরিবারের কাছে তাঁদের ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। তাই তাঁর একটাই আবেদন, যাঁরা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে যেন প্রশাসন এবং সমাজ দাঁড়ায়।

দেবাশিস জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছেন। তবে দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সবচেয়ে জরুরি বলেও তিনি মনে করেন (Taratala)।

কাজের প্রসঙ্গে দেবাশিস বলেন, সাধারণত ঢালাইয়ের কাজে প্রতিদিন ছয়শো থেকে সাড়ে ছয়শো টাকা মজুরি পাওয়া যায়। কিন্তু তারাতলার এই নির্মাণকাজে চার দিনের জন্য প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে মজুরির চুক্তি হয়েছিল। তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের নিয়ে এসেছিলেন এক শ্রমিক ঠিকাদার। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি।

ভয়াবহ দুর্ঘটনার (Taratala) সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে দেবাশিস জানান, বুধবার সকাল থেকেই নির্মাণকাজ চলছিল। ঢালাইয়ের কাজের সময় যন্ত্র চলায় চারদিকে প্রবল কম্পন হচ্ছিল। আচমকাই ওপরের অংশ ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বুঝতে পারেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন। পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও নেটওয়ার্ক না থাকায় কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমেই স্ত্রীকে ফোন করেন দেবাশিস। তাঁর স্ত্রী জানান, ফোন পেয়ে প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরে সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। শনিবার হাসপাতাল থেকে স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে আর কোনওভাবেই এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে স্বামীকে যেতে দেবেন না।

তারাতলার এই বিপর্যয় শুধু বহু পরিবারের স্বপ্ন কেড়ে নেয়নি, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা মানুষদের মনেও রেখে গিয়েছে গভীর আতঙ্কের ক্ষত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts