বছর কয়েক আগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। পরে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এক তৃণমূল নেতার পাটখেত থেকেও উদ্ধার হয় বস্তাভর্তি টাকা। এবার কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের (Surendra Nath College) ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে উদ্ধার হল উঁইপোকার খাওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলেজ চত্বরে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মশার লার্ভা নির্মূলের কাজ করতে কলেজে যান পুরসভার কর্মীরা। সেই সময় ইউনিয়ন রুম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তালা খোলার প্রয়োজন হয়। অধ্যাপকদের অনুমতি নিয়ে তালা ভাঙার পর আলমারি খুলতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। আলমারির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় দুই ব্যাগ ভর্তি উঁইপোকার খাওয়া নগদ টাকা (Surendra Nath College)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, দুই ব্যাগে মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা থাকতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন রুমে এত বিপুল পরিমাণ টাকা এল কীভাবে এবং কেনই বা সেখানে রাখা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, কলেজের (Surendra Nath College) ইউনিয়ন রুমের দায়িত্বে ছিলেন এক তৃণমূল ছাত্রনেতা। সেই কারণেই ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই টাকার উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠের বাড়িতে টাকার পাহাড় দেখা গিয়েছিল, পরে পাটখেতে টাকা উদ্ধার হয়েছে, আর এবার কলেজের ইউনিয়ন রুমে আলমারির ভিতর থেকে টাকা মিলল। তাঁর দাবি, এত টাকা যদি উঁইপোকা খেতে পারে, তাহলে সেখানে কত বিপুল পরিমাণ নগদ ছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়। তিনি দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান (Surendra Nath College)।
ঘটনায় কটাক্ষ করেছে বাম শিবিরও। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা উঁইপোকার খাবার হয়ে যাওয়া থেকেই বোঝা যায়, কত বড় আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
পুলিশ ইতিমধ্যেই টাকা উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। টাকার উৎস, মালিকানা এবং কী উদ্দেশ্যে কলেজের ইউনিয়ন রুমে তা রাখা হয়েছিল, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










