কলকাতা ইসকনের (ISKON) সহ সভাপতির পদ থেকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাধারমণ দাসকে। শনিবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা তাঁকে জানানো হয়। এরপর সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তায় তিনি জানান, কোন কোন ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
রাধারমণ দাস জানান, গত দুই হাজার তেইশ সালে গোরক্ষা সংক্রান্ত একটি বিতর্কে ইসকনকে (ISKON) লক্ষ্য করে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন মানেকা গান্ধী। সেই সময় ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে তিনি মানেকা গান্ধীর বিরুদ্ধে একশো কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনাই পদচ্যুত হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।
সমাজমাধ্যমে করা নিজের বার্তায় রাধারমণ দাস (ISKON) আরও কয়েকটি কারণের কথা তুলে ধরেছেন। এক কৌতুকশিল্পীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ, কট্টরপন্থী সনাতনী গোষ্ঠী নিয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি একসময় দাবি করেছিলেন, উনিশশো ছিয়াত্তর সালে নিউ ইয়র্কে প্রথম জগন্নাথের রথযাত্রার আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সেই বক্তব্যও বিতর্কের কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
তিনি (ISKON) আরও জানান, গত ঊনত্রিশে মে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারকেও ইসকনের নীতির বিরোধী আচরণ হিসেবে দেখা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
রাধারমণ দাস স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তাই এখন থেকে ইসকনের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে আর কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। তবে পদে না থাকলেও ইসকনের উন্নতি, অগ্রগতি এবং সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।
রাধারমণ দাসের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পদচ্যুতির প্রকৃত কারণ নিয়ে ইসকনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।













