তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের প্রাক্তন মুখপাত্র ঋজু দত্ত (Riju Dutta)। একের পর এক অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে চাকরি বিক্রি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি চলেছে।
ঋজু দত্ত (Riju Dutta) বলেন, “চাকরি বিক্রি হয়নি, এ কথা বলার মতো পাপ আর কিছু হতে পারে না। চাকরি বিক্রি প্রমাণিত।” এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির প্ল্যান পাশ করানো থেকে নির্মাণকাজ— সব ক্ষেত্রেই টাকা দিতে হতো। এমনকি বাড়িতে কোমড বসাতেও টাকা নেওয়া হতো বলে দাবি করেছেন তিনি।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ঋজু। তাঁর কথায়, “৯৩ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। কলকাতার রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছে ভারত জিতেছে, পাকিস্তান হেরেছে। মানুষ নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। এখন সবাই মন খুলে কথা বলতে পারছে।”
দলের হয়ে অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে অবস্থান নেওয়া নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি (Riju Dutta)। ঋজুর বক্তব্য, “আরজি কর বা সন্দেশখালির সময় দলের হয়ে লড়াই করেছি। কারণ আমি দলের মুখপাত্র ছিলাম। কিন্তু মন থেকে সবসময় সেটা মেনে নিতে পারিনি। দল যা বলত, তাই বলতে বাধ্য হতাম। মন সায় না দিলেও ডিবেটে গিয়ে দুর্নীতির পক্ষ নিতে হতো।”
আইপ্যাক নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঋজু দত্ত। তিনি বলেন, “তৃণমূল নয়, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন দল চালাতেন। টিকিটের জন্য সত্যিই টাকা চাওয়া হতো। আমার কাছেও ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।”
ঋজুর (Riju Dutta) এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপিও এই সুযোগে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “এখন ধাক্কা খেয়ে অনেকেরই বোধোদয় হচ্ছে।”
তবে ঋজু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। যদিও বিজেপির কয়েকজন নেতার সাহায্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনও আবেদন করিনি। কিন্তু স্থানীয় বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতারাও আমার পরিবারকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।”
ঋজু দত্তর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।













