বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে তৃণমূল ও সিআইডির টানাপোড়েন আরও তীব্র হল। কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল (TMC)। সিআইডির বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বুধবার আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেন তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের (TMC) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে যায় সিআইডি। প্রথমে তদন্তকারী আধিকারিকরা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না পারলেও পরে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশি নিয়েই আদালতে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
হাইকোর্টে কিশোর দত্ত দাবি করেন, কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশির সময় কোনও স্বাধীন সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় নথিপত্র স্ক্যান করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিষয়টির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দেয় (TMC)।
এদিকে বিধায়ক সই জালকাণ্ডে সিআইডির তলব এড়িয়েছেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা তৃতীয়বার তিনি তদন্তকারী সংস্থার ডাকে হাজির হননি। একই সঙ্গে সিআইডির পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবারও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। সমন প্রত্যাহার এবং আইনি সুরক্ষার আবেদন জানানো হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলার শুনানি হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আদালত যদি তাঁকে কোনও রক্ষাকবচ না দেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বারবার তলব সত্ত্বেও হাজির না হওয়ায় তদন্তে অসহযোগিতার প্রশ্ন উঠছে। অভিষেকের দেওয়া কারণগুলিও তদন্তকারীদের কাছে সন্তোষজনক নয় বলে সূত্রের খবর। সিআইডির একাংশের ধারণা, হাজিরা এড়াতেই আইনি পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে (TMC)।
সূত্রের খবর, চতুর্থবার নোটিস পাঠানোর বদলে সিআইডি সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদনও করা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষেরও।
সব মিলিয়ে বিধায়ক সই জালকাণ্ড, সিআইডির তল্লাশি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।













