বঙ্গ রাজনীতিতে দলবদল এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের জল্পনা আরও জোরালো হচ্ছে। একের পর এক নেতা শিবির বদল করায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উত্তপ্ত। এরই মধ্যে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee) দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলে থাকলে তিনি আর তৃণমূলে ফিরবেন না। শুধু তাঁরই নয়, বহু সাধারণ কর্মীর মনেও একই ক্ষোভ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন রাজীব।
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee) বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশের অনেক নেতাই মনে করেন, অভিষেক সরে গেলে আবার সকলে একজোট হয়ে দলনেত্রীর পাশে দাঁড়াবেন। তবে এখনও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের উপর আস্থা রাখছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর দাবি, রাজনীতি মানুষের জন্য। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ না থাকলে দলে থাকার কোনও অর্থ নেই।
রাজীব (Rajib Banerjee) আরও অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক জীবন এবং পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তাঁর দাবি, যেসব কেন্দ্রে আইপ্যাকের সুপারিশে প্রার্থী নির্বাচন হয়েছে, সেই আসনগুলিতেই তৃণমূলের পরাজয় বেশি হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে ডোমজুড়ের বদলে ডেবরা থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তিনি পরাজিত হন। ভোটের পর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাঁকে। সম্প্রতি নিজের সমাজমাধ্যমের প্রচ্ছদ ছবি বদলে শুধুমাত্র নিজের ছবি রাখার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়।
এদিকে তৃণমূল ছেড়ে একাধিক নেতার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগদান রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rajib Banerjee) বিস্ফোরক মন্তব্য আরও জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তিনি ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দেবেন নাকি অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।











