রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের একাধিক বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি (Adhir Ranjan Chowdhury)।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বৈঠকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই দলের পক্ষ থেকেই প্রকাশ্যে স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানানো হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ কখনও ছিল না। তাঁর কথায়, রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেসকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছিল, আর তিনি নিজের দলকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করেছেন। সেটাকেই তিনি নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করে অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury) বলেন, আগে কখনও এই ধরনের রাজনৈতিক নৈকট্য দেখা যায়নি। এখন কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তা সংশ্লিষ্ট নেতারাই জানেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, যদি কংগ্রেস কোনও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তা দলীয়ভাবে জানানো হবে।
এদিকে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় রয়েছে। তাঁর দাবি, জাতীয় রাজনীতিতে আস্থার প্রশ্নে মমতার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে।
দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের বৈঠক এবং তৃণমূলের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। তবে ভবিষ্যতে দুই দলের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ফলে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কৌতূহল অব্যাহত রয়েছে।













