পরিবর্তনের বাংলায় প্রথম ২১ জুলাই (21 july) ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি নতুন মোড় নিতে চলেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূল’-এর পৃথক কর্মসূচি। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে নন্দীগ্রামের একাধিক শহিদ পরিবারের সদস্য ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাম আমলে জমি রক্ষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই আন্দোলনে ৪২ জন শহিদ হন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রতি বছর নিয়ম করে ধর্মতলায় শহিদ দিবসের সমাবেশে উপস্থিত থাকতেন।
শহিদ (21 july) সুপ্রিয়া জানার স্বামী সুকুমার জানা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁদের কাছে কোনও আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, “আমরা এখনও কোনও ডাক পাইনি। ডাক পেলেও যাব না। আমরা বিভ্রান্ত। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তৃণমূল যে এভাবে ভাগ হয়ে যাবে, তা ভাবিনি।”
একই কথা জানিয়েছেন শহিদ ইমাদুল খানের বাবা আব্দুল দাইয়ান খানও। তিনিও (21 july) বার কলকাতায় না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক। কিন্তু শহিদ পরিবারগুলির কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখব।”
অন্যদিকে, বিজেপিপন্থী শহিদ পরিবারগুলির একাংশ তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন। শহিদ প্রলয় গিরির দাদা পলাশ গিরি বলেন, “আমরা বরাবর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ছিলাম, এখনও আছি। তৃণমূল নেত্রী আমাদের জন্য তেমন কিছু করেননি।”
এই পরিস্থিতিতে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারগুলির উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শহিদ পরিবারগুলির এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে।












