উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। আগামী ৮ জুন তাঁর পিয়ংইয়ং পৌঁছনোর কথা রয়েছে। দু’দিনের এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শেষবার তিনি উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন সাত বছর আগে। দীর্ঘ বিরতির পর এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (Xi Jinping)।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক অনেকটাই ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই পরিস্থিতিতে কিম জং উনের (Xi Jinping) সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে চিন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং।
চিন সরকারের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, এই সফরকে দুই দেশই পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শি জিনপিং এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলকে জানাতে চাইছেন যে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদার এখনও চিনই।
চিন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বহু দশকের পুরনো। প্রায় পঁয়ষট্টি বছর আগে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কোনও একটি দেশ বাইরের আক্রমণের মুখে পড়লে অন্য দেশ সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) বয়স বাহাত্তর বছর। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিদেশ সফর অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে উত্তর কোরিয়া সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের জেরে বিশ্বরাজনীতি এখন অস্থির। এই আবহে চিন ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা নতুন কূটনৈতিক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকার জন্য এই সফর নতুন করে অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। ফলে কিম জং উন ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক থেকে কী বার্তা বেরিয়ে আসে, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের (Xi Jinping)।











