মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত যত বাড়ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে ভারতের। কারণ, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে আরব সাগরের তীরে থাকা চাবাহার বন্দরের (Chabahar Port) আশপাশে মার্কিন হামলার খবর সামনে এসেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরের আশপাশের এলাকা। যদিও সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও গোটা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি। কারণ, চাবাহার বন্দর ভারতের কাছে শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ।
সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনে ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বন্দর সংলগ্ন এলাকাতেও হামলা হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে চাবাহারের আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে (Chabahar Port)। সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
চাবাহার বন্দরের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু বছরের। দুই হাজার ষোলো সালে ভারত, ইরান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে হওয়া চুক্তির পর এই বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে ভারত (Chabahar Port)। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার না করেই আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ গড়ে তোলা।
এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল পাকিস্তান। একই সঙ্গে চিনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিল। কারণ, পাকিস্তানের গদর বন্দরের খুব কাছেই তৈরি হয়েছে ভারতের চাবাহার প্রকল্প (Chabahar Port)। গদর বন্দরকে কেন্দ্র করে চিন যে কৌশলগত পরিকল্পনা করেছিল, চাবাহার সেই সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলেই মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি চাবাহার বন্দরের কাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হয়, তাহলে ভারতের বহু বছরের পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খাবে। শুধু তাই নয়, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বিকল্প বাণিজ্য পথও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। সেই সুযোগে চিন ও পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
ভারত ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তার প্রভাব চাবাহারের উপর কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।













