ভূমিকম্পের নাম শুনলেই আতঙ্ক ছড়ায়। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় (Venezuela Earthquake) যা ঘটেছে, তা সাধারণ ভূমিকম্পের ঘটনা নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশটি। প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.২। সেই ধাক্কা কাটার আগেই দ্বিতীয়বার মাটি কেঁপে ওঠে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে। এই বিরল ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
এই জোড়া ভূমিকম্পের পর ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একাধিক এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার (Venezuela Earthquake) দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৭০০-রও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনাকে জোড়া ভূমিকম্প বলা হয়। সাধারণত একটি বড় ভূমিকম্পের পরে ছোট ছোট কম্পন অনুভূত হয়। কিন্তু এখানে পরপর দুটি বড় এবং প্রায় সমান শক্তির ভূমিকম্প হয়েছে, যা অত্যন্ত বিরল (Venezuela Earthquake)।
ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, প্রথম ভূমিকম্পের ফলে ভূগর্ভের এক অংশে জমে থাকা চাপ মুক্ত হয়। সেই চাপ দ্রুত পাশের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এই কারণেই প্রথম ধাক্কার পর এত দ্রুত দ্বিতীয় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার (Venezuela Earthquake) পাশাপাশি ত্রিনিদাদ, টোবাগো এবং পুয়ের্তো রিকো-সহ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেঙে পড়েছে রাস্তার অংশও। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ধ্বংসের চিত্র স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষদের খোঁজ চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, সেনা এবং উদ্ধারকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের জোড়া ভূমিকম্প খুব কমই দেখা যায়। তাই ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা শুধু ক্ষয়ক্ষতির জন্য নয়, বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।













