মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ভেনেজুয়েলা (Venezuela Earthquake)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যারিবিয়ান উপকূলের শহর লা গুয়াইরা। একের পর এক কম্পন এবং পরবর্তী ভূমিকম্পে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে সেই ভয়াবহ পরিবর্তনের ছবি সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
চলতি বছরের বাইশ জুনের উপগ্রহচিত্রে লা গুয়াইরাকে দেখা গিয়েছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায়। চারদিকে বহুতল, প্রশস্ত রাস্তা এবং সবুজে ঘেরা শহরের ছবি ছিল স্পষ্ট। কিন্তু মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে, পঁচিশ জুনের উপগ্রহচিত্রে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য (Venezuela Earthquake)। একাধিক বহুতল ভবন ভেঙে মাটিতে মিশে গিয়েছে। বহু ইমারত আংশিক ধসে পড়েছে। শহরের বিস্তীর্ণ অংশ ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গিয়েছে। বহু জায়গায় গাছপালারও আর কোনও চিহ্ন নেই।
ভূবিজ্ঞানীদের মতে, গত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলির অন্যতম এটি। লা গুয়াইরার পাশাপাশি রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পাশাপাশি পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন (Venezuela Earthquake)।
উদ্ধারকাজ এখনও জোরকদমে চলছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধারকাজ প্রয়োজনীয় গতিতে এগোচ্ছে না। তাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে সাধারণ মানুষও উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে স্বজনের খোঁজে অপেক্ষা করছেন অসংখ্য মানুষ। ধ্বংসস্তূপের পাশে কান্না আর আতঙ্কে ভারী হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। বিপর্যয়ের এই ছবি ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে।









