বিধায়কদের সই জালকাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় সিআইডি (CID)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছেই অবস্থিত ওই কার্যালয়ে তদন্তকারীদের উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্রও।
তদন্তকারী সংস্থার (CID) সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে যে নথি জমা দেওয়া হয়েছিল, সেই নথির একটি কপি খুঁজতেই তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তবে দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধানের পরও কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডির (CID) একটি দল কালীঘাটের ওই কার্যালয়ে পৌঁছয়। সঙ্গে ছিল তল্লাশি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় থানার পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও সেখানে মোতায়েন ছিলেন।
সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ছিলেন। কার্যালয়ের দায়িত্বে ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তী। তিনি প্রথমে তল্লাশি নিয়ে আপত্তি জানালেও পরে তদন্তকারীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালান (CID)।
খবর পেয়ে কালীঘাটে পৌঁছে যান তৃণমূলের একাধিক নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র এবং পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তল্লাশি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কল্যাণ। তিনি দাবি করেন, তদন্তের নামে অযথা হেনস্তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনও বৈঠক যেখানে হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট নথির কপি থাকবেই— এমন ধারণার ভিত্তি কী।
এই বিতর্কের সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে জমা দেওয়া একটি প্রস্তাবপত্রে একাধিক বিধায়কের সই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেন, ওই নথিতে তাঁদের সই নেই। এরপরই সই জাল করার অভিযোগ সামনে আসে এবং তদন্ত শুরু হয় (CID)।
তদন্তকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে পূর্বে দেওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতেই কালীঘাটের কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তল্লাশি শেষে সন্ধ্যার দিকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভাশিষ চক্রবর্তী। তিনি জানান, সিআইডি কার্যালয়ে তল্লাশি চালালেও কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেনি। তবে তদন্ত এখনও চলবে বলে জানা গিয়েছে।
সই জালকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।













