তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল তৃণমূলের একশো এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে (Bappaditya Dasgupta)। শনিবার রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাটুলি থানার পুলিশ। এর আগে সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তৃণমূল নেতা সৌরভ ঘোষকে। সেই জেরার সূত্র ধরেই কাউন্সিলরের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পাটুলি ও বৈষ্ণবঘাটা এলাকার কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত (Bappaditya Dasgupta) দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। একসময় তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং ভোট পরবর্তী হিংসার একাধিক অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হওয়া সৌরভ ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। তদন্তে কাউন্সিলরের (Bappaditya Dasgupta) নাম উঠে আসার পর রাতেই তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাউন্সিলরকে (Bappaditya Dasgupta) থানায় আনা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। থানার সামনে জড়ো হন বহু স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশি গাড়ি থেকে তাঁকে নামানো মাত্রই ‘বাপ্পা চোর’ স্লোগানে সরব হয়ে ওঠেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত তাঁকে নিরাপত্তার মধ্যে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এলাকায় যে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তার পিছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি তোলাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিক তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে সেই সময় কোনও বড় পদক্ষেপ করা হয়নি। এবার নতুন করে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর (Bappaditya Dasgupta) গ্রেপ্তারি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।












