আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Debraj Chakraborty) ঘিরে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। রাজ্য পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি এবার তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে (Debraj Chakraborty)।
কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty) পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার সন্ধ্যায় বেঙ্গল বিশেষ অভিযান বাহিনী এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁকে বাগুইআটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের আগে বিপুল মূল্যের সম্পত্তি আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির প্রকৃত তথ্য গোপন করার অভিযোগও ওঠে। এছাড়াও তোলাবাজি, জমি দখল এবং সিন্ডিকেট পরিচালনার মতো একাধিক অভিযোগ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়।
গ্রেফতার এড়াতে অদিতি মুন্সি এবং দেবরাজ চক্রবর্তী(Debraj Chakraborty) কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। চার মাসের সন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর আবেদন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এরপর পুরুলিয়া থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। এখন তাঁর বিপুল সম্পত্তির উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগে উল্লিখিত অনিয়মের দিকগুলি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও আদালতে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।













