সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় রেলের সম্পত্তি ভাঙচুর ও ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনাগুলি নিয়ে ফের নতুন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সময় যাদের বিরুদ্ধে রেল সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল, তাদের চিহ্নিত করে পুরনো মামলার নথি আবার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে বিশেষ তদন্তকারী সেল গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (CM Suvendu Adhikari)।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যে এসে বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার দিনই এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই ঘটনার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত চালানোর আবেদন করা হয়েছিল। এরপরই পুরনো ফাইল পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় (CM Suvendu Adhikari)।
২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। মুর্শিদাবাদে সেই আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেয়। অভিযোগ, কয়েকটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ভাঙচুর চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একের পর এক কামরা আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনার জেরে বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করতে হয়েছিল। অনেক ট্রেন ঘুরপথে চালানো হয়। এতে রেলের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল (CM Suvendu Adhikari)।
জানা গিয়েছে, তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সেখানে রেল পুলিশের আধিকারিকরা পুরনো নথি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রযুক্তির সাহায্যে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করবেন। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদেরও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে (CM Suvendu Adhikari)।
রেল আইনে রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা গুরুতর অপরাধ। এর জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দোষীদের শনাক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এছাড়াও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রেলের যে ক্ষতি হয়েছিল তার ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে আইন মেনে তার সম্পত্তি বিক্রি করেও সেই টাকা আদায় করা হতে পারে। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, ঘটনার সঙ্গে কোনও নিষিদ্ধ বা বিদেশি সংগঠনের যোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
দীর্ঘদিন পর এই মামলার নথি ফের খোলার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্ত কতদূর এগোয় এবং কারা এর আওতায় আসেন, এখন সেদিকেই নজর সবার।












