ইরান যুদ্ধ ঘিরে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। আপাতত যুদ্ধবিরতি থাকলেও তা যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের তরফে একটি স্পষ্ট শান্তি প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছেন, তবে ধৈর্য ক্রমশ কমছে (Iran War)।
গত একুশে এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানকে আরও সময় দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল (Iran War)। কিন্তু যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌ অবরোধ এখনও জারি রয়েছে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে বলে দাবি আমেরিকার।
এই পরিস্থিতিতে আলোচনা ফের শুরু করার চেষ্টা হলেও ইরান তা নাকচ করেছে। তারা বলেছে, চাপের মধ্যে থেকে কোনও আলোচনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প কড়া অবস্থান নিয়েছেন (Iran War)। তিনি জানিয়েছেন, ইরান দ্রুত চুক্তি করতে চাইছে, তবে আমেরিকা এমন চুক্তিই করবে যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি চুক্তি না হয়, তাহলে আবার হামলা শুরু হতে পারে। তিনি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আজকের মধ্যেই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করবেন নাকি তা আরও বাড়ানোর জন্য অনুমতি চাইবেন (Iran War)।
ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। তারা বলেছে, অবরোধ চলতে থাকলে কোনও আলোচনায় বসবে না। ইরান এই অবরোধকে যুদ্ধেরই অংশ বলে মনে করছে। তাদের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে তেলের স্থাপনায় হামলাও হতে পারে।
এদিকে এই পরিস্থিতিতে চিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের আসন্ন চিন সফর এই সংঘাতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই সফর এখন আমেরিকার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা আর পিছোতে চাইছে না প্রশাসন।
চিন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধ মেটাতে গঠনমূলক ভূমিকা নিতে চায়। তবে একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে চিনের কিছু সংস্থার সঙ্গে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। চিন-সহ বহু দেশ এই পথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই সংঘাত আন্তর্জাতিক অর্থনীতির উপরও চাপ তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা গোপনে চলছে। খুব কম মানুষই এই আলোচনার আসল অবস্থা জানেন বলে তিনি দাবি করেছেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যে কোনও সময় বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।











