গুজরাটের (Gujarat) সুরাতে নিখোঁজ এক মহিলাকে ঘিরে শুরু হওয়া তদন্ত শেষ পর্যন্ত এক ভয়ঙ্কর রহস্যে পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ বছর বয়সি বিশাল সালভি স্থানীয় গোদাদারা থানায় গিয়ে জানান, তাঁর স্ত্রী শিল্পা সালভি নিখোঁজ হয়েছেন। শিল্পা ৩৯ বছর বয়সি ডায়েটিশিয়ান ছিলেন এবং চার দিন ধরে তাঁর খোঁজ মিলছিল না বলে দাবি করা হয়।
কিন্তু ঘটনার মোড় বদলে যায় দুই দিনের মধ্যেই, যখন স্বয়ং বিশাল সালভিও নিখোঁজ হয়ে যান। এরপরই পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করে, যেখানে একটি অপরাধের ইঙ্গিতপূর্ণ স্বীকারোক্তি লেখা ছিল। ওই চিরকুটের সূত্র ধরেই তদন্ত এগোয় এবং শহরের সালাবাতপুরা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ বাড়ি থেকে একটি কাঠের বাক্স উদ্ধার করা হয়।
বাক্সটি খোলার পর ফেনা ও সিমেন্টের ভেতর থেকে শিল্পার পচন ধরা দেহ উদ্ধার হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে শহরের উপকণ্ঠ থেকে বিশাল সালভিকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ১৩ ও ৮ বছর। শিল্পা পুষ্টিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ছিলেন এবং একটি সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ডায়েটিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিজের ক্লিনিকও শুরু করেছিলেন। অন্যদিকে বিশাল হিরে পালিশের কারখানায় কাজ করতেন এবং কয়েক বছর ধরে বেকার ছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। পারিবারিক বিবাদ, সন্দেহ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মতবিরোধ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বিশালের ছেলের কাছ থেকেও একটি চিরকুট উদ্ধার হয়, যেখানে স্ত্রীর মৃত্যুর কথা উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি ঘিরে এখন গভীর রহস্য তৈরি হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।













