চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে গেলেও এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়ে গিয়েছে (Voter List)। এর ফলে বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা কবে হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগামী ৭ মে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে রাজ্যে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিলেন রাজ্যের নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Voter List)।
শুক্রবার তিনি বিধানসভায় এসেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া দেখতে। তিনি জানান, পর্যবেক্ষক হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিনি (Voter List)। সেই সময় সাংবাদিকরা বাংলার ভোট এবং ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন। ভোটের দিন ঘোষণা কবে হতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেন, ভোটের তারিখ ঘোষণা করার ক্ষমতা তাঁর নেই। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনই নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রতিনিধিরা বর্তমানে চারটি রাজ্য ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। সেই পরিদর্শন শেষ করে তাঁরা বাংলায় আসবেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কবে ভোট ঘোষণা করা হবে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও ৬০ লক্ষ মানুষের নাম অমীমাংসিত তালিকায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে (Voter List)। এই বিষয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেন, এই পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। তিনি জানান, এই ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। বাকি নামগুলির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্বাচন কমিশন এসে ঠিক করবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত শেষের দিকে অনেক আবেদন জমা পড়ে এবং সব কেস দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এত বড় সংখ্যায় নাম অমীমাংসিত থাকার ঘটনা তিনি আগে দেখেননি বলেও জানান।
৬০ লক্ষ নাম অমীমাংসিত তালিকায় থাকার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও করা হয় তাঁকে। জবাবে তিনি বলেন, যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বর্তমানে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের চাপ এত বেশি যে প্রতিটি অভিযোগ ধরে ধরে তদন্ত করার মতো সময় নেই বলেও জানান তিনি।
শুনানিতে নথি জমা দেওয়ার পরও অনেকের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সমস্ত তথ্য যাচাই করে তারপরই আইনি নিয়ম মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।













