রাত পোহালেই প্রকাশ্যে আসবে ভোটের ফল। বাংলা জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন, আবার ফিরবে পুরনো সরকার, না কি আসবে পরিবর্তন। সোমবার সকাল আটটা থেকে রাজ্যের আটাত্তরটি কেন্দ্রে শুরু হবে গণনা। এই পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
গণনার দিন প্রায় দুইশো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে গড়ে দুই কোম্পানি করে বাহিনী থাকবে। ভোটের মতোই গণনার সময়ও নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। তাই একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে (Election Commission)।
কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে, গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে কোনও জমায়েত বা বিক্ষোভ করা যাবে না। কেন্দ্রের দুইশো মিটারের মধ্যে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের ভিতরে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা। প্রথম স্তরে থাকবে পুলিশ, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে এবং শেষ স্তরে থাকবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী।
গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। শুধুমাত্র গণনাকর্মী, সরকারি কর্মী, প্রার্থী বা অনুমোদিত এজেন্টরা ঢুকতে পারবেন। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কিউআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তা যাচাই না হলে প্রবেশের অনুমতি মিলবে না। কেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল নিয়ে ঢোকা যাবে না। প্রয়োজন হলে শুধু সাদা কাগজ ও কলম রাখা যাবে (Election Commission)।
স্ট্রংরুম খোলার সময় প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিল খোলা হবে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, পর্যবেক্ষক এবং বাহিনীর জওয়ানরা থাকবেন। গণনার প্রতিটি ধাপ নজরে রাখবে পুলিশ ও প্রশাসন।
ফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দফার ফল আগে যাচাই করা হবে, তারপরই তা ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। গণনাকেন্দ্রের ভিতর ও বাইরে সর্বত্র নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
গণনার দিন প্রায়ই অশান্তির আশঙ্কা থাকে। তাই বিজয় মিছিল হবে কি না, তা নিয়েও প্রশাসন আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সব মিলিয়ে ফল ঘোষণার দিন যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়, তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।












