তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে যে কয়েকজন নেতা দলের সঙ্গে ছায়ার মতো ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)। প্রায় আঠাশ বছর ধরে তিনি দলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু শুক্রবার কালীঘাটে জাতীয় কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি ঘটল। রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি পেলেন সুব্রত বক্সী। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে।
তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ছিলেন সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)। রাজনীতির শুরু কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন থেকে। পরে ব্যাঙ্কের চাকরিতে যোগ দিলেও তৃণমূল গঠনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে স্থায়ী চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পূর্ণ সময়ের জন্য যোগ দেন। এরপর থেকেই দলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের উত্থান, সংগ্রাম, আন্দোলন, ক্ষমতায় আসা এবং আবার বিরোধী রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার সমস্ত পর্যায়ের সাক্ষী ছিলেন সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)। তৃণমূলের রাজনৈতিক যাত্রার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁকে দেখা গিয়েছে দলের সামনের সারিতে।
দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কয়েক বছর ধরেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সুব্রত বক্সী। দুই হাজার তেইশ সালেও তিনি অব্যাহতি চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন সেই আবেদন মেনে নেওয়া হয়নি। পরে শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক ইচ্ছার কথা বিবেচনা করে অবশেষে তাঁকে দায়িত্বমুক্ত করা হয়।
তবে রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেও দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। তিনি জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্বে বহাল থাকছেন। ফলে ভবিষ্যতেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সুব্রত বক্সীর সরে দাঁড়ানো শুধু সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়, তৃণমূলের একটি যুগের অবসানও বটে। কারণ দলের জন্ম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজ্য সভাপতির পদে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা।
দলের অন্দরে অনেকেই তাঁকে ‘স্থায়ী সভাপতি’ বলেই চিনতেন। কারণ প্রজন্ম বদলেছে, নেতৃত্বে এসেছে নতুন মুখ, কিন্তু রাজ্য সভাপতির পদে সুব্রত বক্সীই ছিলেন অপরিবর্তিত। অবশেষে সেই অধ্যায়েরও পরিসমাপ্তি ঘটল।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নতুন নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দিয়ে তৃণমূল কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।













