তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি এবং ভাঙনের জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যেই সামনে এল এমন এক ঘটনা, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে নাকি নিজের (TMC MP) বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ছেলের ছবি পাঠাতে হয়েছে দলের শীর্ষ নেতাকে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংসদ নিজেই।
বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া (TMC MP)। তাঁর ছেলের কিডনিতে পাথর ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য রাজধানীতে যেতে হয়েছে তাঁকে। সেই কারণেই তিনি দলের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।
সাংসদের (TMC MP) দাবি, বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে দলের এক শীর্ষ নেতা তাঁকে ফোন করেন। কেন তিনি দিল্লিতে রয়েছেন এবং কোথায় আছেন, তা জানতে চাওয়া হয়। এমনকি পরিস্থিতির প্রমাণ হিসেবেও ছবি পাঠানোর অনুরোধ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছেলের ছবি পাঠান তিনি।
ঘটনার পর নিজের ক্ষোভ গোপন করেননি জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তিনি জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্যই তিনি দিল্লিতে এসেছেন এবং বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও আগেই জানিয়েছিলেন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর ছেলের অস্ত্রোপচার হয়েছে বলেও তিনি (TMC MP) জানান।
রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে আরেকটি ঘটনা। সূত্রের খবর, লোকসভার এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার ফোনও নাকি তিনি ধরেননি। এরপর থেকেই দলের অন্দরে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সাংসদ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, লোকসভায় তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনিও সেই পথেই হাঁটবেন। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায়ও রাজ্যের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিবিরের সমর্থনে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে দম্পতির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন সাংসদের ক্ষোভ নয়, বরং দলের অন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিরও ইঙ্গিত বহন করছে। আগামী দিনে লোকসভা এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।













