জামিনে জেল থেকে বেরোনোর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেন রাকেশ সিং। প্রার্থী হওয়ার পরই তিনি সরাসরি তৃণমূল প্রার্থী ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চ্যালেঞ্জ জানান। এই কেন্দ্রকে ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।
শনিবার খিদিরপুর এলাকায় রাকেশ সিংয়ের হয়ে প্রচারে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রচার চলাকালীন তাঁরা একটি শিব মন্দিরে পুজোও দেন। এরপর এলাকায় বিশাল মিছিল করে বিজেপি, যা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।
খিদিরপুর, যেখানে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা বেশি, সেখানে বিজেপির অবস্থান কেমন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখলেই বোঝা যাবে পরিস্থিতি। তাঁর দাবি, এই এলাকায় অধিকাংশ মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট রাজনীতির কৌশল মানুষ এখন বুঝে গিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব সম্প্রদায়ের উন্নয়ন হবে। তিনি আরও বলেন, এই কেন্দ্রে এবার ফিরহাদ হাকিমের জয়ের সম্ভাবনা নেই এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলাচ্ছে।
অন্যদিকে, রাকেশ সিংয়ের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও একটি মামলায় কসবার একটি ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগেও তাঁর নাম উঠে আসে। সম্প্রতি তিনি জামিন পান এবং তারপরই বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করে।
এরপর থেকেই কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রচারের সময় একবালপুর এলাকায় সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ, যার মধ্যে জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, রাকেশ সিংয়ের উসকানিতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সব মিলিয়ে কলকাতা বন্দর কেন্দ্র এখন হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে। ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে এই এলাকায়।













