একটি নামকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বৈঠকে কোন নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) ডাকা হয়েছিল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। কারণ, বৈঠকে উপস্থিত হন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানান, তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমন্ত্রণ ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের নির্মল ঘোষের নামে। নামের মিল থেকেই এই বিভ্রাট তৈরি হয়েছে।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) তাঁদের দলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তাঁকে নিয়ে অযথা রাজনীতি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরই সামনে আসে সেই নির্মল ঘোষের পরিচয়, যিনি আসলে রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কৌশল্যার বাসিন্দা নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh) দীর্ঘদিন কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের পরিবহণ ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়ে রাজ্য কমিটির সদস্য হয়েছেন।
নামের বিভ্রাট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh) বলেন, একই নামে একাধিক মানুষ থাকতেই পারেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন কাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। নতুন দলে তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তিনি সেই দায়িত্বই পালন করবেন।
বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদে এখনও কালীঘাটপন্থী নেতৃত্বের প্রভাব রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কর্মাধ্যক্ষের পদে তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্মল ঘোষ জানিয়েছেন, যদি নতুন নেতৃত্ব তাঁকে পদ ছাড়ার নির্দেশ দেয়, তাহলে তিনি ইস্তফা দেবেন। আবার রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি বর্তমান পদ ছেড়ে দেবেন। এছাড়া জেলা পরিষদে কাজ করতে বাধা তৈরি হলে সেই অবস্থাতেও তিনি পদে থাকতে চান না। তাঁর দাবি, নতুন নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই তিনি মানুষের উন্নয়নের কাজ করতে চান।













