বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে লামিন ইয়ামালে (Lamine Yamal)র বান্ধবী ইনেস গার্সিয়াকে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ইয়ামালের মা এবং ভাইও। কিন্তু যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে, তিনি হলেন ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই। বিশ্বকাপের এত বড় মঞ্চে ছেলের পাশে তাঁকে একবারও দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্পেনের সংবাদমাধ্যমেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছে বড় হলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ইয়ামালের (Lamine Yamal) মনে তৈরি করেছিলেন তাঁর বাবাই। সংসারে অভাব ছিল চরম। ছেলের জন্য ফুটবল বুট কেনার সামর্থ্যও ছিল না মুনিরের। শেষ পর্যন্ত এক স্থানীয় জুতো ব্যবসায়ীর কাছে অনুরোধ করে ছেলের জন্য বুটের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। সেই সংগ্রামের কথা আজও ভোলেননি স্পেনের এই তরুণ তারকা।
গোল করার পর ইয়ামাল (Lamine Yamal) প্রায়ই হাত দিয়ে ‘৩০৪’ সংখ্যা দেখান। এই সংখ্যা আসলে তাঁর শৈশবের এলাকা রোকাফোন্ডার ডাকঘরের পরিচয়সংখ্যা। সেই এলাকাতেই এখনও থাকেন তাঁর বাবা। নিজের শিকড় এবং বাবার সংগ্রামকে স্মরণ করতেই এই উদযাপন করেন ইয়ামাল।
বিশ্বকাপে বাবার অনুপস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন স্পেনের এই তারকা। তিনি (Lamine Yamal) জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর বাবা আমেরিকায় যেতে পারেননি। দীর্ঘ সফর এবং এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সশরীরে মাঠে থাকতে না পারলেও প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বাবার সেই উৎসাহই ইয়ামালের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাবাকে আরও বেশি মনে পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইয়ামাল (Lamine Yamal)। তবে আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই। তাঁর দাবি, আগের বড় প্রতিযোগিতাগুলির মতো এবারও স্পেন ফ্রান্সকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। ইয়ামাল জানিয়েছেন, এই বিশ্বকাপে তাঁর প্রতিটি ম্যাচ এবং প্রতিটি পারফরম্যান্স তিনি বাবাকেই উৎসর্গ করছেন।












