দলের আসল পরিচয়, প্রতীক এবং সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দরজায় (Election Commission)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির—দুই পক্ষকেই নোটিস পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কোন পক্ষকে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে নিজেদের দাবি ও প্রমাণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে (Election Commission)।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই সমস্ত তথ্য, নথি এবং যুক্তি-সহ জবাব জমা দিতে হবে। কমিশন সেই নথি খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গিয়েছে (Election Commission)।
তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈধতা নিয়েও বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, দুই হাজার পঁচিশ সালের ফেব্রুয়ারিতেই আগের কর্মসমিতির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। এরপর আর কোনও অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়নি। তাই বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, মমতা শিবিরের দাবি, দুই হাজার ছাব্বিশ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে বৈধতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই।
এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করার অধিকার কার থাকবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি থাকেন, যিনি দলের হয়ে সরকারি যোগাযোগ করেন এবং যার স্বাক্ষর বৈধ বলে গণ্য হয়। সেই দায়িত্ব এখন কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও দুই শিবিরের মধ্যে মতবিরোধ চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন সাংগঠনিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর করতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর প্রার্থীদের মনোনয়ন সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ক্ষমতা এবং অধিকার নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।













