তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে তিনি বারবার জানিয়ে এসেছেন, তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন। কালীঘাটের বৈঠক, ধর্নামঞ্চ কিংবা বিধানসভায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এবার তাঁর একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার নিজের সমাজমাধ্যমে কুণাল (Kunal Ghosh) লিখেছেন, “মমতাদির সঙ্গে আছি। কিন্তু বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই।” এই একটি বাক্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, দলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েই কি তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন?
শুক্রবার তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলে ফের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দলের ভিতরে অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে যে ক’জন নেতা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। ফলে তাঁর ‘একই ভুল’ মন্তব্য ঘিরে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
শুধু তাই নয়, নিজের পোস্টে কুণাল (Kunal Ghosh) আরও লিখেছেন, দলের ভুলত্রুটি সংশোধনের বদলে যদি বিভিন্ন স্তরে একই ধরনের ভুল চলতে থাকে, তাহলে তা দেখে চুপ করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেছেন, বহু কর্মী, ছাত্র ও যুব নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত জানাচ্ছেন। তাঁদের কথা তিনি শুনছেন এবং আগামী দিনে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন। পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, “তার পরেরটা পরে দেখা যাবে।”
এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র ও যুবদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করায় অনেকেই যুব তৃণমূলের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। সম্প্রতি সায়নী ঘোষকে ফের যুব সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও নানা মহলে আলোচনা চলছে।
তবে পুরো পোস্টে কুণাল একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি দলত্যাগ বা অন্য কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ার পক্ষে নন। তিনি লিখেছেন, ভোটের এক মাসের মধ্যে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে দলনেত্রীর বিরুদ্ধে গিয়েছে, তাঁদের তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর কথায়, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন।
এদিকে একই দিনে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও সমাজমাধ্যমে একটি সরাসরি সম্প্রচার করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, জেলার একাধিক নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পাশাপাশি তিনি মত দেন, দলের সমস্ত বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক ডেকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত।
সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে চলা টানাপোড়েনের আবহে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিল। আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।













