বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলের পরও প্রকাশ্যে দলের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি বর্ধমান পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকারকে (TMC MP)। সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও সরব ছিলেন। এমনকি ফল প্রকাশের কিছুদিন পর কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সাংসদদের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন শর্মিলা (TMC MP)। সেই ছবিও নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি।
কিন্তু সেই বৈঠকের এক মাসও পেরোয়নি, এর মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তাঁর অবস্থান বদলকে ঘিরে। সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন শর্মিলা (TMC MP)।
তিনি (TMC MP) বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দলের কাছে নিজের অসন্তোষের কথা জানাতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে নানা সমস্যা এবং অবহেলার শিকার হয়েছেন তিনি। সেই কারণেই প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন।
শর্মিলার (TMC MP) কথায়, খুব অল্প সময়ের সিদ্ধান্তে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে এসে দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সাংসদের দাবি, জেলা নেতৃত্ব কখনও তাঁকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি এবারের নির্বাচনী প্রচারেও তাঁকে একদিনের জন্যও ডাকা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও অজানা ছিল না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে শর্মিলা জানান, কিছুদিন আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে আর সেই কথা হয়নি। বর্তমানে দিল্লিতে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি ফোন করবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর এমন কোনও ইচ্ছা নেই।
বাংলার রাজনীতিতে শর্মিলা সরকার খুব পরিচিত মুখ ছিলেন না। মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন কাটানোর পর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমবার ভোটে লড়েই সাংসদ হন তিনি।
সোমবার দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় শর্মিলাকে। পাশাপাশি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই চিঠিতে মোট ২০ জন সাংসদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে শর্মিলা সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তন এবং প্রকাশ্য ক্ষোভের মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।













