পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শুরু হল নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের বাইরে থেকে সরিয়ে দেওয়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের ফলক। সেই জায়গায় বসানো হয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম (Suvendu Adhikari)। দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষের বাইরে থাকা মমতার নামফলক সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুধু মুখ্যমন্ত্রীর ঘরই নয়, বিরোধী দলনেতার ঘরের বাইরেও বদল এসেছে। এতদিন সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নাম ছিল। এবার বিজেপি সরকার গঠন করায় সেই ঘরও কার্যত ফাঁকা হয়ে গেল। বিধানসভার অন্দরে এই পরিবর্তনকে অনেকেই বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
শুক্রবার থেকেই বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘরের বাইরে থাকা পুরনো নামফলক সরানোর কাজ শুরু হয়েছিল। শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের বাইরের ফলকও বদলে দেওয়া হয়।
২৫ বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। শুভেন্দুর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়া। যদিও এখনও পর্যন্ত দফতর বণ্টনের ঘোষণা হয়নি (Suvendu Adhikari)।
নতুন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন সমাজ ও এলাকার প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করেছে বিজেপি। মহিলা প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। উত্তরবঙ্গের মুখ হিসেবে শপথ নিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী হয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। মতুয়া সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে একমাত্র ক্ষুদিরাম টুডুই সাঁওতালি ভাষায় শপথ নেন।
শপথ অনুষ্ঠানে গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে হুডখোলা গাড়িতে করে ব্রিগেডে পৌঁছন তিনি। অনুষ্ঠানে দেশের ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, একাধিক উপমুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।












