অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) উপভোক্তাদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার সূত্রে দাবি, যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন এবং যাঁদের তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে টাকা পৌঁছে যাবে।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রকল্পের (Annapurna Yojana) আওতায় থাকা উপভোক্তাদের তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। যাচাইয়ের সময় একাধিক ডুপ্লিকেট ও ভুয়ো নাম চিহ্নিত হওয়ায় সেগুলি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নিরীক্ষার কাজও চলছে। যাঁরা এখনও আবেদন করেননি বা ফর্ম পূরণে সমস্যায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্যের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার নবান্নের সভাঘরে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই আবেদনপত্র বিতরণ শুরু হয়েছিল (Annapurna Yojana)। এখন অনলাইন আবেদনও চালু হয়েছে। তাঁর দাবি, যাঁরা আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে আজ থেকেই টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রথমে সরাসরি টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও পরে পর্যালোচনায় দেখা যায় বহু ভুয়ো নাম তালিকায় রয়েছে। সেই কারণেই নতুন করে আবেদনপত্র জমা নেওয়া এবং তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। আবেদনপত্রের আকার এবং তথ্য সংগ্রহ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য শুধুমাত্র প্রকল্পের জন্য নয়, ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে (Annapurna Yojana)। তবে ফর্ম পূরণে কোনও সমস্যা হলে শুধুমাত্র সেই কারণে কাউকে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না বলেও তিনি দাবি করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, লক্ষাধিক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক তথ্য যাচাইয়ের সময় বহু অসঙ্গতি সামনে এসেছে। সেই কারণেই নতুন করে আবেদনপত্র পূরণ এবং যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাঁদের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হবে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী তিন মাস ধরে এই যাচাই ও অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলবে। নতুন আবেদন জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা যাচাই করা হবে এবং সব তথ্য সঠিক থাকলে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে।













