দীর্ঘ কয়েক দশক পর প্রথমবার সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসল ইজরায়েল ও লেবানন (Peace Talk)। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের মধ্যে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বৈঠকের আয়োজন করেন আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইজরায়েলের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাদা হামাদেহ মোয়াদ (Peace Talk)। ভারতীয় সময় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকের শুরুতেই রুবিও বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। দীর্ঘ দিনের জটিলতা এবং সংঘাতের ইতিহাস সত্ত্বেও শান্তির পথে এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি আরও জানান, এই আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তির কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হবে (Peace Talk)।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে লেবাননের মানুষ অনেক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। এই আলোচনা সেই কষ্টের অবসানের শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইজরায়েল যদি লেবাননের ভূমি দখল করে রাখে, তাহলে স্থিতিশীলতা ফিরবে না। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত লেবাননের সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করাই একমাত্র সমাধান।
অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লা এই আলোচনার বিরোধিতা করছে। বৈঠক চলাকালীনই তারা উত্তর ইজরায়েলের ১৩টি শহরে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই অবস্থায় ব্রিটেন-সহ মোট ১৭টি দেশের বিদেশমন্ত্রী যৌথ বিবৃতি দিয়ে দুই দেশকে শান্তির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছে, সরাসরি আলোচনা হলে স্থায়ী নিরাপত্তা ও শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে তারা সব পক্ষকে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে হিজবুল্লার হামলার পর থেকে লেবানন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ইজরায়েলের পালটা হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ হয়। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২০০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও আন্তর্জাতিক মহল আশাবাদী যে এই বৈঠক ভবিষ্যতে নতুন পথ দেখাতে পারে।












