তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার নবান্নে দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, দুটি আলাদা কমিশন গঠন করা হচ্ছে। একটি কমিশন দেখবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, কাটমানি এবং কারচুপির অভিযোগ। অন্য কমিশন তদন্ত করবে গত কয়েক বছরে মহিলা ও শিশুদের উপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনা।
মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) জানান, কেন্দ্র এবং রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, কোথায় কাটমানি নেওয়া হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের সদস্যসচিব করা হয়েছে আইপিএস কে জয়রামণকে। আগামী ১ জুন থেকে কমিশন কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) দাবি, সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সুবিধা অনেক জায়গায় দুর্নীতির কারণে আটকে গিয়েছে। সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, কাউন্সিলর এবং দালালদের যোগসাজশে দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করবে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে যে টাকা লুট হয়েছে, তা উদ্ধারের চেষ্টাও করা হবে।
এদিন আরেকটি কমিশন গঠনের কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। মহিলা ও শিশুদের উপর গত কয়েক বছরে হওয়া অত্যাচারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে চেয়ারম্যান করে নতুন কমিশন তৈরি করা হয়েছে। এই কমিশনের সদস্যসচিব করা হয়েছে আইপিএস দময়ন্তী সেনকে।
মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) জানান, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অধীনে থাকা কয়েকটি নির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বাকি সমস্ত অভিযোগ এই কমিশন খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে পুরনো এফআইআর এবং চার্জশিটও নতুন করে পরীক্ষা করা হবে। খুব দ্রুত কমিশন সুপারিশ জমা দিতে শুরু করবে বলেও আশাবাদী সরকার।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলার মানুষের সামনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারই অংশ হিসেবে এই দুই কমিশন গঠন করা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতেই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, যাঁদের কাছে দুর্নীতির তথ্য, নথি বা প্রমাণ রয়েছে, তাঁরা যেন কমিশনের কাছে তা জমা দেন। সাধারণ মানুষের সহযোগিতাতেই সত্য সামনে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।












