মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করল আমেরিকা। টানা চার দিনের আলোচনার পর আমেরিকা, ইজরায়েল এবং লেবানন (Israel Lebanan Deal) একটি ত্রিপাক্ষিক কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করা।
চুক্তির কথা ঘোষণা করেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর দাবি, এটি ভবিষ্যতের শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করবে। একইসঙ্গে সীমান্তে আস্থা বাড়ানোর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নেওয়া হবে (Israel Lebanan Deal) ।
চুক্তি অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সেনা সরাবে ইজরায়েল (Israel Lebanan Deal) । এরপর ওই এলাকায় মোতায়েন হবে লেবাননের সেনাবাহিনী। পুরো প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন মার্কিন সামরিক আধিকারিকরা। তাঁদের দায়িত্ব হবে, নির্দিষ্ট এলাকায় হিজবুল্লার কোনও সশস্ত্র সদস্য উপস্থিত আছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
জানা গিয়েছে, পরীক্ষামূলক এই দুটি এলাকা লিতানি নদীর দুই পাশে অবস্থিত। একটি নদীর উত্তরে এবং অন্যটি দক্ষিণে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছিল ইজরায়েল। সেই ঘটনার পর এই প্রথম সীমিত আকারে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে মার্কো রুবিও বলেন, আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হলেও এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
চার দিন ধরে ওয়াশিংটনে টানা বৈঠকের পর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেন মার্কো রুবিও। তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। শেষ মুহূর্তের মতপার্থক্য দূর করতেই তাঁর এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষর যতটা সহজ হয়েছে, বাস্তবে তা কার্যকর করা ততটাই কঠিন হতে পারে (Israel Lebanan Deal) । কারণ, লেবাননে এখনও হিজবুল্লার সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী। এই চুক্তিতে সেই মূল সমস্যার সমাধান করা হয়নি। বরং ধাপে ধাপে আস্থা তৈরি এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর পথ খোঁজা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইজরায়েল ও হিজবুল্লার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতির পরেও হিজবুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। তাদের দাবি, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।












