ডিজিটাল পরিষেবার উপর কর চাপানোর পরিকল্পনা করলেই সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে শতভাগ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে কোনও দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর ডিজিটাল পরিষেবা কর চালু করে, তাহলে সেই দেশের সমস্ত পণ্যের উপর আমেরিকা শতভাগ শুল্ক বসাবে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা। সেই চুক্তিতে অধিকাংশ ইউরোপীয় পণ্যের উপর পনেরো শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হলেও ডিজিটাল পরিষেবা কর নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থেকেই গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্পের (Donald Trump) এই কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের (Donald Trump) দাবি, ইউরোপের একাধিক দেশ খুব শীঘ্রই মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা করছে। তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে আমেরিকা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশের সব ধরনের রপ্তানি পণ্যের উপর শতভাগ শুল্ক বসাবে। এমনকি প্রয়োজনে আগে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিও অকার্যকর বলে গণ্য করা হবে।
এর আগেও বিদেশে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত কর বা কঠোর নিয়ম চাপানোর বিরোধিতা করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের কর মূলত আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই আনা হচ্ছে।
বিশ্বের বহু দেশ ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারের কারণে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছ থেকে কর আদায়ের পথে হাঁটছে। তাদের যুক্তি, যে দেশে ব্যবসা থেকে আয় হচ্ছে, সেই দেশেও কর দেওয়া উচিত। তবে আমেরিকা বরাবরই এই নীতির বিরোধিতা করে এসেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘ আলোচনার পর আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করলেও ডিজিটাল পরিষেবা করের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা ব্রিটেন দুই হাজার কুড়ি সাল থেকেই বড় সার্চ ইঞ্জিন, সমাজমাধ্যম এবং অনলাইন বাজারের আয়ের উপর ডিজিটাল পরিষেবা কর চালু করেছে। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, ডিজিটাল ব্যবসায়ীদের কর কাঠামোতে ভারসাম্য আনা এবং বড় বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে ন্যায্য করের আওতায় আনতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি শিল্পে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যুতে আমেরিকা ও ইউরোপের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।











