ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার জন্য নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে (Iran War)। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা। এই পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের জোগানে বড় প্রভাব পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে (Iran War)।
এই প্রস্তাব আমেরিকার কাছে পৌঁছেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত আট এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই আবার সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের খবর সামনে আসায় উত্তেজনা বেড়েছে। এর জেরে একসময় তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায় (Iran War)।
ইরান ইতিমধ্যেই নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। তাদের দাবি, যদি আবার হামলা হয়, তবে তার জোরালো জবাব দেওয়া হবে। ইরানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকার সম্ভাব্য আক্রমণ স্বল্প সময়ের হলেও তা তীব্র হতে পারে, এবং পরে ইজরায়েলও হামলায় যোগ দিতে পারে।
অন্যদিকে আমেরিকা এখনও তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট করেনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, ইরানের আগের প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন। পাকিস্তানও এখনও নতুন বৈঠকের দিন ঠিক করেনি।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা আক্রমণ চালায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে লক্ষ্য করা হয়। পাশাপাশি ইরান সমর্থিত একটি গোষ্ঠী ইজরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার পাল্টা জবাব দেয় ইজরায়েল।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার আশঙ্কায় বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম ওঠানামা করছে। যদিও সাম্প্রতিক খবরের পর দাম কিছুটা কমেছে, তবুও পুরো পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, আলোচনায় দ্রুত কোনও ফল আসবে বলে আশা করা ঠিক নয়। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, নতুন করে হামলা হলে তার ফল মারাত্মক হতে পারে।
এই সংঘাতের ফলে ইরানের অর্থনীতিতেও বড় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এখনও তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য নতুন পরিকল্পনা নিয়েও ভাবছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় একটি নতুন জোট তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে ওই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং আগামী দিনে কোন দিকে পরিস্থিতি মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।













