পুণের লোহাগড় দুর্গে ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। পুলিশ সূত্রের দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং আগেভাগেই পরিকল্পনা করে করা একটি হত্যাকাণ্ড। এই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী (Maharashtra Murder)। তদন্তে উঠে এসেছে, খুনের দিন প্রায় দশ ঘণ্টা নিজের সমস্ত ডিজিটাল পরিচয় আড়াল করে রেখেছিলেন চেতন।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন সকালেই সিয়া ও কেতনকে অনুসরণ করে লোহাগড় দুর্গে পৌঁছেছিলেন চেতন। নিজের অবস্থান যাতে মোবাইলের মাধ্যমে কেউ জানতে না পারেন, সেই কারণে তিনি মোবাইলের তথ্য সংযোগ বন্ধ করে দেন (Maharashtra Murder)। শুধু তাই নয়, নিজের মোবাইল ফোন দোকানেই রেখে যান। কর্মচারীদের নির্দেশ ছিল, কেউ ফোন করলে যেন তারাই রিসিভ করেন। ফলে বাইরে থেকে মনে হয়, চেতন দোকানেই রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, যোগাযোগ বজায় রাখতে তিনি অন্য এক কর্মচারীর মোবাইল ব্যবহার করেছিলেন। এতে তদন্তকে বিভ্রান্ত করা যাবে বলেই তাঁর ধারণা ছিল (Maharashtra Murder)। দুর্গে পৌঁছে নিজেকে আড়াল করার জন্য প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও হুডি পরে ছিলেন তিনি। মাথা ঢেকে রেখে দূর থেকে সিয়া ও কেতনকে অনুসরণ করেন। পরে সেই হুডি পরা ব্যক্তির ছবি নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা চেতনের খোঁজ পান।
তদন্তে জানা গিয়েছে, খুনের পরিকল্পনাও আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, পাহাড়ের ধারে পৌঁছে সিয়া একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে পড়েন। সেটাই ছিল পূর্বনির্ধারিত সংকেত। এরপর আড়ালে থাকা চেতন বেরিয়ে এসে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেন। তদন্তকারীদের মতে, পুরো ঘটনাটি কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় (Maharashtra Murder)।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে আবার সক্রিয় হয় চেতনের মোবাইলের তথ্য সংযোগ। তাঁর ধারণা ছিল, সমস্ত পরিকল্পনা সফল হয়েছে এবং কোনও প্রমাণ রেখে আসেননি। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, ওই দীর্ঘ সময় তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলে আসা সব ফোন অন্য ব্যক্তিরা ধরেছেন। কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদে সেই তথ্যও মিলেছে।
পুলিশের দাবি, এই দশ ঘণ্টার ডিজিটাল নীরবতাই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। দীর্ঘ জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত চেতন পরিকল্পিত হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেই তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আরও এগোচ্ছে তদন্ত।











