দমদমে তৃণমূল কাউন্সিলরকে (TMC Councilor) ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল। রবিবার উত্তর দমদম পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর তাপস রায়ের মুখে কালো কালি মাখিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। শুধু তাই নয়, তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে একটি দলীয় কার্যালয় ব্যবহার করা হচ্ছিল। রবিবার সেই কার্যালয় খোলার পর একটি বন্ধ আলমারি খুলতেই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি (TMC Councilor)। অভিযোগ, আলমারির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে বহু মৃত ব্যক্তির ভোটার পরিচয়পত্র, বিপুল সংখ্যক রেশন কার্ড, খাদ্যসাথী কার্ড, জমি ও বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং উত্তর দমদম পুরসভার বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই কাউন্সিলরের সহযোগীকে মারধর করা হয় এবং পরে তাপস রায়কে বাইরে আনার সময় তাঁর মুখে কালো কালি মাখিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় (TMC Councilor)।
দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই ওই কার্যালয়ে গভীর রাতে যাতায়াত করছিলেন কাউন্সিলর ও তাঁর সহযোগীরা। খবর পেয়ে তিনি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে পৌঁছন। তাঁদের দাবি, কার্যালয়ের দরজা খোলার পর একটি তালাবদ্ধ আলমারি দেখতে পান। প্রথমে আলমারি খুলতে অনীহা প্রকাশ করা হলেও পরে চাপের মুখে সেটি খোলা হয়। তখনই বিভিন্ন পরিচয়পত্র, সরকারি নথি এবং জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি (TMC Councilor)।
অরিজিৎ বক্সীর আরও অভিযোগ, আলমারি থেকে একটি ডায়েরিও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে একাধিক নামের পাশে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার হিসাব লেখা রয়েছে। তাঁর দাবি, এই নথি থেকে আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিজেপি বিধায়ক স্থানীয় মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া নথিগুলির উৎস এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।












