সকালে গুমোট গরম, আর বেলা বাড়তেই চড়চড়ে রোদে পুড়ছে শহর থেকে বিভিন্ন রাজ্য। একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। দিল্লি-সহ বহু জায়গায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই তেতাল্লিশ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও লু বইছে।
এই চরম গরমের মধ্যেই রাস্তায় নেমে কাজ করছেন গিগ কর্মীরা (Gig Workers)। খাবার ডেলিভারি থেকে শুরু করে যাত্রী পরিবহন বা বাড়ির পরিষেবা—সব কাজই চলছে প্রখর রোদে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করতে গিয়ে হিট স্ট্রোকের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে গিগ কর্মীরা (Gig Workers) কেন্দ্রের কাছে বিশেষ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স নামে একটি সংগঠন কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়েছে। সেই সংগঠনের আওতায় রয়েছে একাধিক ডেলিভারি ও অ্যাপ ভিত্তিক পরিষেবা সংস্থার কর্মীরা।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে (Gig Workers), সামাজিক সুরক্ষা আইনের আওতায় গিগ কর্মীদের জন্য তাপপ্রবাহের সময় বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তাদের দাবি, তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি থাকলে কর্মীদের জন্য বেতনসহ বিরতির ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে তারা কিছু সময় বিশ্রাম নিতে পারেন।
এছাড়া পর্যাপ্ত পানীয় জল, ওআরএস, শীতল বিশ্রামস্থল এবং জরুরি চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, গরমে কাজের সময় এই সুবিধাগুলি কোনও বিলাসিতা নয়, বরং শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার।
বিশ্বের একাধিক দেশ যেমন দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ইতিমধ্যেই তীব্র গরমে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া দিল্লিতে দুপুর বারোটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, কারণ এই সময়েই তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। অন্যদিকে, একটি শ্রমিক সংগঠন গ্রাহকদেরও অনুরোধ করেছে যাতে তারা ডেলিভারি কর্মীদের জন্য এক গ্লাস জল রাখার মতো ছোট উদ্যোগ নেন।
চরম গরমে রাস্তায় কাজ করা এই কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে এখন দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।













