এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৭১ বিমানের দুর্ঘটনার (Air India Plane Crash) তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। তার মধ্যেই চূড়ান্ত রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ দাবি জানাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস। সংগঠনটি জানিয়েছে, তদন্তের সময় তারা যে প্রযুক্তিগত তথ্য ও মতামত জমা দিয়েছে, চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে সেগুলি যেন আনুষ্ঠানিক ভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
পাইলট সংগঠনটি কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডুকে চিঠি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এআই ১৭১ দুর্ঘটনার (Air India Plane Crash) তদন্তকারী সংস্থা বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সংগঠনের দেওয়া প্রযুক্তিগত মতামত যেন নথিভুক্ত ভাবে বিবেচনা করা হয়।
শুধু তা-ই নয়, পাইলট সংগঠনের দাবি, সরকার যদি চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ বা অনুমোদনের আগে কোনও স্বাধীন পর্যালোচনা ব্যবস্থা তৈরি করে, তা হলে সেই প্রক্রিয়াতেও তাদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হোক (Air India Plane Crash) । পেশাদার পাইলটদের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্বকারী স্বাধীন অংশীদার হিসেবে সংগঠনটিকে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
পাইলট সংগঠনটির দাবি, তারা জানতে পেরেছে যে চূড়ান্ত রিপোর্টের খসড়া কোনও স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর কথা সরকার ভাবছে বা সেই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ধরনের কোনও স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি আনুষ্ঠানিক ভাবে গঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র বা তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত সপ্তাহেও পাইলটদের এই সংগঠন এআই ১৭১ দুর্ঘটনার (Air India Plane Crash) তদন্তে বোয়িং ৭৮৭ বিমানের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য আরও বিস্তারিত ভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছিল। সংগঠনের বক্তব্য ছিল, বিমানের বৈদ্যুতিক ও বৈদ্যুতিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত তথ্য তদন্তের আওতায় গভীর ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এআই ১৭১ বিমানটি ২০২৫ সালের ১২ জুন আমদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড়েছিল। উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতে থাকা আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬০। একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। বিমানের ১২ জন কর্মীরও মৃত্যু হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পর থেকেই এআই ১৭১-এর কারণ খুঁজতে তদন্ত চালাচ্ছে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, সাংগঠনিক এবং মানবিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। চলতি বছরের জুনে এক বছর পূর্ণ হওয়ার সময়ও তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছিল, তদন্ত তখনও শেষ হয়নি এবং প্রমাণ ও বিভিন্ন পরীক্ষার বিশ্লেষণ চলছিল।
এআই ১৭১ নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে বা তদন্ত শেষ—এমন দাবি আগেও উঠেছিল। তবে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো স্পষ্ট জানিয়েছিল, তদন্ত তখনও চলছিল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। চূড়ান্ত রিপোর্টে দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুপারিশ থাকবে বলেও জানিয়েছিল সংস্থাটি।
এখন তদন্তের শেষ পর্যায়ে পাইলট সংগঠনের এই চিঠি নতুন করে নজর কেড়েছে। সংগঠনটি মূলত চাইছে, চূড়ান্ত রিপোর্টে পৌঁছনোর আগে তাদের জমা দেওয়া প্রযুক্তিগত তথ্য যথাযথ ভাবে পরীক্ষা করা হোক। পাশাপাশি স্বাধীন পর্যালোচনার কোনও ব্যবস্থা তৈরি হলে পেশাদার পাইলটদের প্রতিনিধিত্বও রাখা হোক।
তবে এই দাবি থেকে তদন্তের চূড়ান্ত ফল কী হবে বা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এআই ১৭১ দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।











