গ্রেপ্তারের পর ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) ঘিরে একের পর এক নতুন অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় একশো বিঘা জমি জোর করে দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সমর্থনে জমির একাধিক নথি পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখার আবেদনও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জরির কারিগর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। পরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং তৃণমূলের নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। একসময় বিধানসভা নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও তিনি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন তাঁর স্ত্রী সারিকা, যিনি রেজিনা বিবি নামেও পরিচিত। সেই ঘটনায় তিনিও গ্রেপ্তার হন। পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার দু’জনকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে (Jahangir Khan)।
এবার জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) এবং তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, জাহাঙ্গির খান, তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পত্তি রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গিরের নামে চারটি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে আরও চৌত্রিশটি সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। সেই সমস্ত সম্পত্তির উৎস এবং মালিকানা নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি সম্পত্তি নিয়ে প্রাথমিকভাবে অসঙ্গতির তথ্যও সামনে এসেছে।
বিধান পাড়ুইয়ের অভিযোগ, বহু গরিব মানুষের জমি জোর করে দখল করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় আশি থেকে একশো বিঘা জমির নথি পুলিশের হাতে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু জমি নিজেদের নামে নথিভুক্ত করা হলেও আইনি জটিলতার কারণে কয়েকটি জমির নথিভুক্তি সম্পূর্ণ করা যায়নি। এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, কয়েক বছর আগেও জাহাঙ্গির খানের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের কোনও কার্যকর তদন্ত হয়নি। এবার গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় সম্পূর্ণ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
অন্যদিকে এলাকার এক বাসিন্দা, যিনি নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করেছেন, অভিযোগ করেন যে অতীতে তাঁরা হামলারও শিকার হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের সঠিক তদন্ত হলে আরও বহু সম্পত্তির তথ্য সামনে আসতে পারে।
তবে জাহাঙ্গির খান বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই নতুন অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযোগগুলির তদন্ত চলছে এবং সেগুলির সত্যতা যাচাই করা বাকি।













